
|| আল আমিন হোসেন | নিজস্ব প্রতিনিধি (সিরাজগঞ্জ) ||
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান কর্তৃক কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে কর্মজীবী সচেতন নারী সমাজ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেলকুচি উপজেলার আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে ঝাড়ু মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় পুরো এলাকায় প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী কর্মজীবী নারীরা হাতে ঝাড়ু নিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের নারীবিদ্বেষী ফেসবুক পোস্টের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু কর্মজীবী নারীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র নারী সমাজের জন্যই চরম অবমাননাকর। এটি একটি কুৎসিত, পশ্চাৎপদ ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীরা আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার কাছ থেকে এ ধরনের ভাষা ও আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এমন বক্তব্য সমাজে নারীদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার শামিল এবং এটি নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।
মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় কর্মজীবী নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। নারীরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ সেই নারীদের নিয়েই কটূক্তি, গালিগালাজ ও অবমাননাকর মন্তব্য করা মানে পুরো নারী সমাজকে হেয় করা এবং তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা।
সমাবেশে বক্তারা ডা. শফিকুর রহমানের বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের জন্য অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, ভবিষ্যতে নারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা পোস্ট দেওয়া হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় বক্তারা নারীর মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সকল সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ঝাড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী নারী ছাড়াও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সংহতি প্রকাশ করেন।
