
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জোড়গাছ হাট এবার সর্বোচ্চ ২ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে ইজারা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য হাটবাজার ইজারাদারদের নাম ও সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন মাইদুল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জোড়গাছ হাটের নির্ধারিত সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৯ টাকা। তবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে তা ২ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। এর সাথে আয়কর ও ভ্যাট যোগ করে ইজারাদারকে সরকারকে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে ইজারাদারকে প্রতি মাসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৭ টাকা খাজনা আদায় করতে হবে।
নাম ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ। ১৪৩৩ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ হতে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে উপজেলার ৫টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জোড়গাছ হাট ছাড়াও থানা হাট ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বালাবাড়ী হাট ৭০ হাজার টাকা, রানীগঞ্জ হাট ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ টাকা এবং ফকিরের হাট ৭৯ হাজার ৫৫০ টাকায় ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
ইজারা শর্তে কঠোরভাবে বলা হয়েছে, সরকার অনুমোদিত নির্ধারিত রেট অনুযায়ী টোল আদায় করতে হবে এবং বিনা রসিদে কোনো টোল নেওয়া যাবে না। এছাড়া ইজারাদারকে নিজ খরচে বাজারের দৃশ্যমান স্থানে টোল চার্ট প্রদর্শন করতে হবে এবং কোনোভাবেই সাব-লিজ দেওয়া যাবে না।
এদিকে, চিলমারীর হাটবাজারগুলোর এই অস্বাভাবিক ইজারা মূল্য নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, বিপুল পরিমাণ ইজারা মূল্য তুলতে গিয়ে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি খাজনার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কেনাবেচায় ভোগান্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
