
|| মোস্তফা আল মাসুদ | বগুড়া ||
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার খাদিজা ফিলিং স্টেশন এলাকার ২নং রেল ঘুমটি সংলগ্ন সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ায় পরিবহন ও বালু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪০) এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির সামনের যাতায়াতের পথের ধারে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কারা তাকে হত্যা করে সেখানে লাশ ফেলে রেখে গেছে।
নিহত সাইফুল ইসলাম সন্ধ্যাবাড়ি গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। তিনি সাতটি ট্রাকের মালিক ছিলেন এবং ট্রাক ভাড়া ও বালু ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে ব্যবসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও তিনি ফেরেননি। রাতভর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা তার কোনো খোঁজ পাননি। সকালে বাড়ির পাশেই তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসেন মুহাম্মদ রায়হান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ কর্মকর্তা হোসেন মুহাম্মদ রায়হান সাংবাদিকদের জানান, সাইফুলকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাসহ গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া তিনটি হত্যাকাণ্ডই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের পরদিন থেকে বগুড়ায় টানা তিন দিনে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে কিশোর আলিফের গলাকাটা লাশ উদ্ধার এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মাটিডালি মোড় এলাকায় ফাহিম নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
