বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১

খুলনার ৮৪০ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬ ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়তি নজরদারিতে প্রশাসন

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তপসিল ঘোষণার আগেই মাঠ জরিপ করে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের দিন থেকে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ, তাদের সঙ্গে থাকবে বডি ক্যামেরা।

তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা-৬ আসন। এ আসনের ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা মহানগরীর ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং আড়ংঘাটা ও যোগীপোলের একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসনে ঝুঁকির হার সবচেয়ে কম, ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আসনভিত্তিক হিসাবে খুলনা-১ এ ১১৫টির মধ্যে ৭৬টি, খুলনা-২ এ ১৫৭টির মধ্যে ১০৫টি, খুলনা-৩ এ ১৫৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ এ ১৪৪টির মধ্যে ৯৫টি এবং খুলনা-৫ এ ১৫০টির মধ্যে ৮৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মহানগর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নূরনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুর জাহান-মাহাবুব প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাক বিভাগীয় বিদ্যালয়, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, কেটিএম হাই স্কুল, খুলনা সরকারি কলেজ, ন্যাশনাল গার্লস হাই স্কুল, পল্লী মঙ্গল বালিকা বিদ্যালয়, সিটি গার্লস স্কুল, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্কুল, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ পাঁচজন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোবাইল পেট্রোলিং ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে যানবাহন পৌঁছানো কঠিন, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, প্রায় ৫৫৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা, যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং করা হবে। মাঠে থাকবে ১২০০ আর্মি সদস্য। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আনসার ও ভিডিপির খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক নুরুল হাসান ফরিদী জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী আনসারসহ ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবারের মধ্যে আনসার সদস্যরা কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। উপজেলা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০ জন করে আনসার স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ান আনসারও প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *