
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনার লবণচরা থানার বহুল আলোচিত জান্নাতুল মাওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি তোতা মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. আসাদুর জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আসামিকে হাজির করা হলে মাওয়া হত্যার প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড় জমে। একপর্যায়ে তারা আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক খাস কামরা থেকে বের হয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে জনতা শান্ত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তোতা মিয়া ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে আটক করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহত মাওয়ার পরিবারের সঙ্গে দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন তোতা মিয়া। অতীতেও তিনি একটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন এবং ২০২০ সালে মুক্তি পান।
পিবিআই জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে তোতা মিয়া। তার ধারণা ছিল, ডিভোর্সের পেছনে মাওয়ার পরিবারের প্রভাব রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে।
ঘটনার দিন ২৩ মার্চ দুপুরে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে এসে মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে সুইচগেট এলাকায় নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর সন্ধ্যার পর দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
রাতে তোতা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে নিহতের বাবার ইমোতে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে মরদেহের অবস্থান জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ হরিণটানা এলাকার একটি বাগান থেকে মাওয়ার মরদেহ, জুতা ও হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় সে এবং পরে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
