
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনার বন্ধ ক্রিসেন্ট জুট মিল লিজ নেওয়ার পর পাটকল চালু না করে সেখানে মুরগির ফিড কারখানা স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে খালিশপুরে বিক্ষোভ ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দ্রুত ফিড কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পুনরায় পাটকল হিসেবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় খালিশপুরে ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ এবং শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বন্ধ হয়ে যাওয়া প্লাটিনাম, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা।
বিকাল ৫টার দিকে বিভিন্ন বন্ধ পাটকলের শ্রমিকরা ক্রিসেন্ট গেটে জড়ো হন। পরে তারা মিলটি পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রধান ফটকের সামনে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের খালিশপুর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক আবু দাউদ দীন মোহাম্মদ মৃধা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন খালিশপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মো. ফারুক হোসেন হিলটন, খুলনা বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সড়ক পথ কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবির, শ্রমিক নেতা মো. ওমর ফারুক, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. রেজাউল ইসলাম, মো. ইউসুফ শিকদার, মনির হোসেন, মো. ফরিদ, মো. আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ক্রিসেন্ট জুট মিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর একটি। মিলটি লিজ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য পাটকল হিসেবে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও সেখানে ভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মুরগির ফিড কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, বন্ধ পাটকলগুলো চালু হলে হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই পাটশিল্পকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো কারখানা পরিচালনার উদ্যোগ শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা অনতিবিলম্বে ক্রিসেন্ট জুট মিল এলাকায় মুরগির ফিড কারখানা চালুর কার্যক্রম বন্ধ করে মিলটিকে পাটকল হিসেবে পুনরায় চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্রিসেন্ট জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
