
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাজেয়’ থাকার দাবি কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় আমেরিকার অত্যন্ত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের আকাশপথ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে দাবি করে আসছিল, এই ঘটনা তাকে চরম বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খোদ মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছে।
সামরিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই হামলায় ইরান ‘প্যাসিভ ইনফ্রারেড ডিটেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কোনো সংকেত না ছড়িয়েই ইঞ্জিনের তাপ শনাক্ত করে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে মার্কিন বিমানটি কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার আগেই বিধ্বস্ত হয়। পেন্টাগন জানিয়েছে, বিমানের একজন পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইরান নিখোঁজ পাইলটকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাকে উদ্ধারে প্রয়োজনে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর ঠিক পরেই পারস্য উপসাগরে আমেরিকার দ্বিতীয় আরেকটি এ-১০ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। যদিও পেন্টাগন যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না, তবে তেহরান দাবি করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতেই বিমানটি সাগরে তলিয়ে গেছে। এই বিমানের পাইলটকে অবশ্য নিরাপদেই উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী।
এই জোড়া আঘাতের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলো বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত বুধবারও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শতভাগ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সমরবিশারদদের মতে, ইরান তার আধুনিক রাডার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ‘লেয়ার্ড এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম’ দিয়ে প্রমাণ করেছে যে আকাশপথে আমেরিকা মোটেও নিরাপদ নয়।
এদিকে এই যুদ্ধ নিয়ে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেই অসন্তোষ বাড়ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের উদ্দেশ্য বারবার পরিবর্তন হওয়ায় সাধারণ মার্কিনিরা এই সংঘাতের চড়া মূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। হরমুজ প্রণালি ও ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখার যে দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর করে আসছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে ‘অতিরঞ্জিত’ হিসেবেই তুলে ধরছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই একতরফা সামরিক আগ্রাসনে ইরান নতি স্বীকার তো করেইনি, বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে পাল্টা প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে একটি লড়াকু জাতিকে রাতারাতি দমন করা সম্ভব নয়। এই সংঘাত এখন ওয়াশিংটনের জন্য একটি প্রলম্বিত দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার পথে।
