বৃহস্পতিবার, জুন ১৮

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

দীর্ঘ চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ডিজিটাল মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বুধবার থেকেই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতারা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

চুক্তি সইয়ের পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাবে এবং প্রয়োজনে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, অন্য দেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র থাকা অন্যায্য নয়।

এদিকে এই চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, আলোচনার টেবিলে তার চেয়েও বেশি পাওয়া গেছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের শত শত বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এই আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। চার মাসের এই দীর্ঘ সংঘাতে ইরান ও লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও। তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল অংশ নেয়নি এবং দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অধিকার ধরে রেখেছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *