Tuesday, August 18

ইবিতে বিধিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান, বিভাগে তালা দিলো শিক্ষার্থীরা

|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে নতুন সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিভাগটির বর্তমান সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন সভাপতি হিসেবে অন্য বিভাগের শিক্ষক তথা ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তবে বিভাগে একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই প্রতিবাদে এবং নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি পদে দায়িত্ব প্রদানের দাবিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় সভাপতি প্রদান বিধিমালা অনুযায়ী, একটি বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করা হয় এবং পরবর্তীতে তা রোটেশন পদ্ধতিতে আবর্তিত হয়। বিভাগে ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত কোনো যোগ্য শিক্ষক না থাকলে বর্তমান সভাপতিকেই পুনঃদায়িত্ব প্রদানের বিধান রয়েছে। তিনি অসম্মতি জানালেই কেবল অনুষদের ডিনকে উক্ত দায়িত্ব দেওয়া যায়।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন এবং তারা সবাই সহকারী অধ্যাপক। তাদের মধ্যে দুজন ইতোপূর্বে ও সম্প্রতি দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। বিধি অনুযায়ী অবশিষ্ট তিনজন শিক্ষকই সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব দেওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, “আমাদের বিভাগে সভাপতি হওয়ার মতো সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। অন্য বিভাগ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সেশনজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তারা বিভাগের প্রতি যত্নশীল থাকেন না। আমরা আমাদের বিভাগের শিক্ষকের হাতেই এ দায়িত্ব দেখতে চাই।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না; উপাচার্য যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি।”

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কল রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *