
|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||
অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা অভিনব কৌশলে পাচারের সময় এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫ এর সিপিএসসি ইউনিট। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. শাহানুর রহমান শাহিন (৩২)। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

র্যাব জানায়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
র্যাব সূত্রে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, একজন মাদক ব্যবসায়ী ট্রেনযোগে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দিকে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫, সিপিএসসি-এর একটি গোয়েন্দা দল রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন আড়ানী রেলস্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বাঘা থানাধীন আড়ানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকানো অবস্থায় মোট ৯৮৮ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শাহিন নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার পানকা গ্রামের বাসিন্দা এবং সে মো. রমজান আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, সে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সে নিজের পেশার আড়ালে ট্রেন ও বাস ব্যবহার করে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী অজ্ঞাত স্থান থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক সংগ্রহ করত। পরে সেগুলো রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দরে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাব জানায়, এই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রটির মূল হোতা ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৫ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
