
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভারতে উগ্রবাদী হিন্দুদের দ্বারা মুসলমানদের মসজিদ ও মাদ্রাসা ধ্বংস এবং মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাদ জুমআ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর মোস্তফা বশিরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ নাছির। সমাবেশে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সভাপতি এস এম শামীমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ নাছির বলেন, “একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবের সুবিধার অজুহাতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম ধর্মীয় উপাসনালয় ভেঙে ফেলা চরম বৈষম্যমূলক ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ। বিকল্প জমি দেওয়ার প্রস্তাব সত্ত্বেও প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের একতরফা বুলডোজার নীতি বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম ঐতিহ্যের ওপর চরম আঘাত হেনেছে।” তিনি অবিলম্বে ভারতের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ রক্ষা করে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারতে থামছেই না মুসলিম নিপীড়ন ও অত্যাচার। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর চলমান এসব জুলুম-নির্যাতন ও বিধর্মীদের ন্যাক্কারজনক অপতৎপরতা রুখে দিতে অবিলম্বে বিশ্বমুসলিমকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিংস্র আচরণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বিপ্লব ও সকল মুসলিমের সম্মিলিত ঐক্য ছাড়া এ জাতির মুক্তির আর কোনো পথ নেই উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন।
