
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই দেশে নানামুখী সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্য দুজন শপথ নিলেও সরকার নিয়েছে কেবল একজনের। সরকারের এই অপনীতির কারণেই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের যুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেশে তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি আর আশপাশের দেশের অর্থনীতি এক নয়।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে শিল্পখাতে নেমে আসা ধসের চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে উৎপাদন ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদেশি ক্রেতা তাদের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার বাতিল করেছে, যা কর্মসংস্থান সংকুচিত করছে। এই কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব শুধু শিল্পখাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো দেশের ওপর পড়বে।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “অনুকূল পরিবেশ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। সরকার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র পুরো উল্টো; কর্মসংস্থানের বদলে দেশে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।”
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন, নিজেদের কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে নয়, জামায়াত জাতীয় সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চায়। তবে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিএনপি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দেশের চলমান জনভোগান্তি ও মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা করতে চাইলেও সরকারি দল সেসব বিষয় অনুমোদন দিচ্ছে না। ফলে সমস্যা কমার বদলে একের পর এক সংকট বেড়েই চলেছে।”
