Tuesday, September 22

সিলেটে তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ স্কুলে হামলার অভিযোগ: প্রিন্সিপাল ও কো-অর্ডিনেটরকে মারধর

|| বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট ||

সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় অবস্থিত তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ স্কুলে হামলা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তানজিমুল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসা সিলেট শাখার প্রিন্সিপাল জিল্লুর রহমান এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক অনিয়মের একটি মামলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার লেনদেনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর (২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জিল্লুর রহমান, মাহফুজ রহমান চৌধুরী ও তানজিমুল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসার কর্মী আব্দুল আহাদসহ কয়েকজন তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ স্কুলের মদিনা মার্কেট শাখায় প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা স্কুলের প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা সাঈদ হুসাইনের অফিসে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় সাঈদ হুসাইনকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি সাহায্যের জন্য বেল চাপলে একজন নারী কর্মী সেখানে এগিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।

ঘটনার সময় স্কুলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাইরে থেকে অফিসের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটের দিকে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ও পরিচালক কাজী সুমাইয়াকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর এক মিনিট পর সাঈদ হুসাইনের নম্বর থেকেও সুমাইয়াকে কল দেওয়া হয় এবং হামলার বিষয়টি জানানো হয়, যা কিছুক্ষণ পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে কাজী সুমাইয়া দ্রুত মদিনা মার্কেট ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পান, জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন সাঈদ হুসাইনকে ঘিরে ধরে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং স্বাক্ষর না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এ সময় বাধা দিলে জিল্লুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা কাজী সুমাইয়ার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। কাজী সুমাইয়ার হিজাব টেনে ছিঁড়ে ফেলা, গলা চেপে ধরা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টার একপর্যায়ে আব্দুল আহাদ নামে এক ব্যক্তির হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাজী সুমাইয়াকে আঘাতের চেষ্টা করা হলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জিল্লুর রহমানের মাথায় লাগে। পরবর্তীতে স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ঘটনার সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল সাঈদ হুসাইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। ঘটনাটির সঠিক সত্যতা পুলিশি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

ঘটনার পর থেকে কাজী সুমাইয়াকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীরা আরও জানান, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে চিকিৎসার জন্য কাজী সুমাইয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করে। ফলে নিরাপত্তার অভাবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাঙ্গণেও তানজিমুল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসার মিরাবাজার শাখার অ্যাকাউন্টেন্ট মুরাদসহ অন্য এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি ও গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সাঈদ হুসাইনের উদ্যোগে তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কয়েক বছর ধরে পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য ও অভিযোগ প্রচারিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, যাচাই ছাড়া একতরফা তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *