
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দাওয়াতুন্নবী (সা:) উপলক্ষে “দ্বীন কায়েমে আমাদের করণীয়”শীর্ষক আলোচনা সভায় ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া বলেছেন, দ্বীন কায়েমের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা:) প্রথম যে কাজটি করেছিলেন তা ছিল দাওয়াত। আর সেই দাওয়াতের প্রথম বাক্য ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বিশ্বাসী কোনো মুসলমান অন্য কোনো আদর্শ বা মতবাদের অনুসারী হতে পারেনা।
তিনি বলেন, এ বিষয়টি যারা জানেন তারা সর্বশ্রেণীর মুসলমানদের জানাবেন। এটা রাসূলের সুন্নাহ। কোনো মুসলমান আল্লাহর আইন ও বিধান ছাড়া অন্য কোনো বিধান মানতে পারে না। যদি মানে তাহলে তখন সে আর মুসলমান থাকতে পারেন না। তাই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদেরকে বিশেষত দাওয়াতি কাজ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা:) এই কাজটি বিশেষভাবে করেছেন। দাওয়াতকে সার্বজনীনভাবে দেশ ও জাতির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দাওয়াতের প্রথম ক্ষেত্র হবে পরিবার। পরিবারের ছেলে মেয়ে, স্ত্রী, পুত্র, পরিজন।এরপরে পাড়া প্রতিবেশী, সমাজ ও রাষ্ট্র। সর্বত্র দ্বীনি দাওয়াতি কাজকে সার্বজনীনভাবে তুলে ধরতে হবে। বলতে হবে দেশ, জাতী ও মানুষের কল্যাণের জন্য ইসলামই মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমে চেষ্টা করা অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতই ফরয। অনান্য ফরয ইবাদত যেমন আল্লাহর বলা, রাসূল (সা:)- এর দেখানো নিয়মে করতে হয়; ঠিক তেমনি দ্বীন কায়েমের কাজও আল্লাহর বলা রাসূলের দেখানো পথেই হতে হবে। আব্রাহাম লিংকনদের তৈরি গণতান্ত্রিক পথ-পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর কোথাও দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হাজারো চেষ্টা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে; কিন্তু সফলতার মুখ বিশ্ববাসী দেখতে পায়নি।
তিনি আরো বলেন, মক্কায় রাসুল (সা:)-এর দাওয়াতি কাজ, লোক তৈরির মিশন ও বাঁধার মুখে মদিনায় হিজরত পরবর্তী মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং মক্কা বিজয়; এই এইসব দ্বীন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন মঞ্জিল। আমরা যারা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গণজাগরণ বা গণঅভুত্থান তথা ইসলামী গণবিপ্লব, দেশ ও জাতির মুক্তির একমাত্র পথ। আমাদের চিন্তা-চেতনা ও লক্ষ্য উদ্দেশ্যের উপর অটল-অবিচল থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে আন্দোলনের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল কর্মী সদস্যকে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে হবে এবং ঘরে ঘরে ইসলামী বিপ্লবের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে রাসুল (সা:)-এর পথ ও পদ্ধতিই মুসলিম উম্মাহ তথা আমাদের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় পথ।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে আন্দোলনের ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব মোস্তফা বশীরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমীন, সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসান, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা ফারুক আহমাদ ও উত্তরের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, ঢাকা উত্তরের নায়েবে আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান আসলামী, কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু ত্বহা মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক প্রমূখ। শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম ইসহাকী, নাতে রাসুল পরিবেশন করেন মাওলানা আব্দুল কাদের এবং প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম রোকন।
