
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদক, চোরাচালান ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নাগেশ্বরী বণিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক ফজলুর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই কাপড় জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযানে মোট ২৬৮ পিস থান কাপড় উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্বে নাগেশ্বরী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন, নাগেশ্বরী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক প্রধান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী উপজেলা সদরের দয়াময়ী পাইলট স্কুল সংলগ্ন নাগেশ্বরী বণিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক ওরফে ফজলুর বাড়ি এবং মোমিনগঞ্জ এলাকার রিয়াজুল ইসলামের (৩৫) বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় এসব স্থান থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩ হাজার ২১৬ মিটার (২৬৮ পিস) ভারতীয় অবৈধ কাপড় জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশে এনে মজুত ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি চলছিল।
এ ঘটনায় নাগেশ্বরী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় নির্দিষ্ট কয়েকজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা সীমান্ত চোরাকারবারিদের আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলাজুড়ে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে আমাদের এ ধরনের কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের এমন পদেক্ষেপে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সীমান্ত চোরাচালানের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
