Saturday, August 15

বদলগাছীতে খাস পুকুর দখলে নিয়ে বিএনপি নেতার মাছ চাষ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাঁপাডাল মৌজায় ইজারা ছাড়াই সরকারি খাস পুকুর দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে। সরকারি নথিতে পুকুরটি ইজারাবিহীন থাকলেও সেখানে নিয়মিত মাছ চাষ চলায় সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায় নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাডাল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৪৬৯ নম্বর দাগে প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর পুকুরটি অবস্থিত। ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন মেয়াদে উপজেলার বিভিন্ন খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হলেও এই পুকুরটির জন্য কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবশিষ্ট সময়ের জন্য পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তা ইজারা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুকুরটি আহসান হাবিব ভুট্টুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী পাহাড়পুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী মিনু আরা কোনো প্রকার বৈধ ইজারা ছাড়াই পুকুরটি ভোগদখল করছেন।

ইজারা ছাড়া মাছ চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আহসান হাবিব ভুট্টু সরাসরি স্বীকার করে বলেন, “আমি পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। লিজ ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ করছি। এলাকায় আমার প্রভাব আছে, অন্য কেউ লিজ নিলেও কাউকে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।”

তাঁর স্ত্রী মিনু আরা ইজারার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে জানান, ২০০৭ সালের আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে পুকুরটি তাঁদের দখলেই ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তাঁদের হাতছাড়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁরা পুনরায় ইজারা ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান (জিল্লু মাস্টার) জানান, পুকুরটির ইজারা হয়েছে কি না তা তিনি নিশ্চিত নন, তবে ভুট্টু সমঝোতার মাধ্যমে মাছ চাষ করছেন বলে শুনেছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

পুকুরটি কীভাবে ইজারা ছাড়া দখল হলো—তা জানতে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে চলে যাওয়া বন্ধ করতে দ্রুত তদন্তপূর্বক পুকুরটি দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারার ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *