
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। পরে এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলন আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। প্রায় ১৫০০ মানুষকে হত্যা ও হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হওয়ার প্রেক্ষিতে বিগত প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশকে শাসন করার পরও শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, উন্নয়নের নামে অনিয়ম, দূর্নীতি এবং রাজস্ব বণ্টনের অসংগতি বৈষম্যকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এ বাস্তবতায়, বিগত শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি, জুলুম ও অপশাসনের কারণে সবচেয়ে বেশি জনরোষ সৃষ্টি করেছিল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিচার প্রক্রিয়া চলমান। সরকার রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। এই চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের সংস্কার নিয়ে একটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন।
কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বারবারই বলছে যে, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই সংস্কার করা সম্ভব এবং তারা সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যথেষ্ট আগ্রহী, কিন্তু আজ জনগণের প্রশ্ন এখন নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল, এখন সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংষ্কারে কোনো বাঁধা থাকার কথা না।কিন্তু দৃশ্যত কোনো সংষ্কার বা কোথাও কোনো পরিবর্তনের কোন ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অনেকেরই অভিযোগ।
দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, বিচার ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতি অব্যহত রাখতে, সকল ক্ষেত্রে দূর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে এবং চিরতরে দেশে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে সকল ক্ষেত্রে সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য।
ছাত্র-জনতা দেশ ও সমাজের একটি পরিবর্তনের আকাঙ্খা নিয়ে জীবন দিল, পঙ্গুত্ববরণ করলো, অনেকে অনেক কিছু ই হারালো। জাতি সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র বাস্তবে দেখার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
