শনিবার, জুন ২৭

গুইমারায় ইউপিডিএফের শীর্ষ নেতা আটক, অস্ত্র-চাঁদাবাজির নথিসহ বিপুল আলামত উদ্ধার

|| খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ||

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র, চাঁদাবাজির রশিদ, মাসিক চাঁদা আদায়ের হিসাব-নিকাশের বই, সাংগঠনিক নথিপত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর দুটি আভিযানিক দল গুইমারা উপজেলার পাইনংপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউপিডিএফের প্রধান পোস্ট পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ঝিমিত চাকমা (৪০)কে আটক করা হয়। তার বাড়ি গুইমারা উপজেলার কুকিছড়া গ্রামে।
অভিযান চলাকালে ঝিমিত চাকমার আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি পুরাতন লোকাল পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি খালি কার্টুজ। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ নথিপত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি কালার প্রিন্টার, একটি লেমিনেটিং মেশিন, একটি সোলার ইনভার্টার, ৭০টি বিভিন্ন ধরনের বই, দুটি প্রিন্টার কালি, ৪২টি মাসিক চাঁদা আদায়ের বই, ১৪৫টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, বিভিন্ন চিঠিপত্র, পোস্টার তৈরির কাগজপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংবলিত এক হাজারটি ছক বই, পাঁচটি পেনাফাইল, একটি দলীয় পতাকা, আটটি দলীয় আর্ম ব্যান্ড, বিভিন্ন ফাইল, দুটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন, একটি ট্রাভেল তাবু, চারটি প্লাস্টিক ড্রাম, বিভিন্ন দলিল, তিনটি ভারতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, চারটি দলীয় ক্যাপ, একটি চশমা, সদস্যদের করণীয় নির্দেশনা সংবলিত তিনটি নথি, চারটি কম্বল এবং কয়েকটি পারিবারিক ছবি।

সেনাবাহিনী জানায়, অভিযান শেষে আটক ঝিমিত চাকমাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের দাপট এবং আধিপত্য বিস্তার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দুর্বল করার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান অভিযান শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *