মঙ্গলবার, মে ১২

কাবার দুয়ারে দাঁড়িয়ে | পর্ব-০৪

বেশ কিছুদূর চলার পর হঠাৎই এক জায়গায় আমাদের বাস থামলো। আমরা ভাবলাম এসে পড়েছি বোধহয়। দেখা গেল, না। এখনো অনেক পথ বাকি। গাড়ি হাইওয়ে থেকে মক্কার মূল শহরে প্রবেশ করবে। কর্তৃপক্ষের একজন গাড়ি থেকে নেমে গেল। সামনেই আলোঝলমল হাইওয়ে পুলিশের অফিস। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে ফিরে এলে গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো। এইবার মওলানা মজিরুদ্দিন সাহেব গাড়ির লাউড স্পিকারে কথা বলতে শুরু করলেন। প্রথমে তাঁর সাথে আমরা সবাই সমস্বরে তালবিয়া পাঠ করলাম: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’

তারপর তিনি পবিত্র মক্কা নগরী এবং পবিত্র কাবার শান ও গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বললেন। এবং আমাদের উদ্দেশ্যে বেশকিছু দিক নির্দেশনা দিলেন। যার সারকথা হচ্ছে:

আজ থেকে বাকি যতদিন আমরা এই পবিত্র ভূমি মক্কা এবং মদিনায় অবস্থান করবো ততদিন আমরা মহান আল্লাহ্ এবং তাঁর প্রিয় হাবিব রাসুল (সাঃ)-এর মেহমান। এই কয়দিন আমাদেরকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে। ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। আমাদের সফরের যে মূল উদ্দেশ্য পবিত্র হজ্জ পালন, তার এখনো অনেকদিন বাকি। এই কয়দিন আমরা পবিত্র কাবা এবং মদিনায় রাসুল (সাঃ)-এর রওজা মোবারকে এবাদত-বন্দেগি করে কাটাবো। নিজ নিজ গুনাহ-খাতার জন্য আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুলের দরবারে কান্নাকাটি করে মাফ চাইবো। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, সহকর্মী-সহচর তথা গোটা বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া করবো।

যত বেশি পারি নফল এবাদত করবো। নফল তাওয়াফ করবো। রাসুলের রওজা মোবারকে দরুদ ও সালাম পেশ করবো। তবে এসব করতে গিয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, অধিক নফল এবাদত করতে গিয়ে আমরা যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ি। কারণ সামনে আমাদের হজ্জ। যেটি ফরজ বিধান। নফল এবাদত করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে শেষে ফরজ আদায় করাই আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়বে।

আমরা এখানে একটা বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবো, সেটি হচ্ছে এখানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মাজহাবের হাজিগণ আসবেন। এক এক জনের এবাদত-পদ্ধতি এক এক রকম। আমরা পরস্পর কেউ কারোটার ভুল ধরতে যাবো না। আমরা যে যার মুয়াল্লিমের কাছ থেকে বা হুজুরের কাছ থেকে যেভাবে শিখেছি অর্থাৎ আমরা যে যেভাবে নামাজ-রোজা করে অভ্যস্ত সে সেভাবেই নিজের এবাদত-বন্দেগি করবো। অন্যের প্রতি খেয়াল করা বা তাকে সুধরিয়ে দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাহলে পরস্পরের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলেও হতে পারে। প্রত্যেকের এবাদতের ধরণই তার নিজস্ব মাজহাব অনুযায়ী সঠিক। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।

তিনি আরও একটা বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আমরা এই কয়দিন পবিত্র হারাম শরিফের পাশেই অবস্থান করবো। আমাদের হোটেল হারাম শরিফের একদম সন্নিকটে। তাই প্রতি ওয়াক্ত নামাজই আমরা হারাম শরিফে পড়তে পারবো। সেখানে দেখবেন কিছু দূর পর পরই নির্দিষ্ট জারে পবিত্র জমজম কূপের পানি রাখা আছে। আপনারা তৃপ্তি সহকারে পান করবেন। তবে যেটিতে ‘নট কোল্ড’ লেখা আছে সেই জার থেকেই পানি পান করবেন। এই গরমে ‘কোল্ড’ লেখা জারের ঠাণ্ডা পানি পান করলে সর্দি-কাশি হবার সম্ভাবনা আছে। আর এজেন্সির পক্ষ থেকে আপনাদেরকে যে ছোট ট্রাভেল ব্যাগ দেওয়া হয়েছে তার ভেতর ছোট পানির বোতল নিয়ে যাবেন। ফেরার সময় সেই বোতল ভরে পানি নিয়ে আসবেন। বড় বোতল নিলে সেটি পূর্ণ করতে অধিক সময় লাগবে। অন্য হাজী সাহেবদের তাতে কষ্ট হবে। হোটেলেও খাবার পর সেই পানি পান করবেন। এই পানি আল্লাহর বিশেষ রহমত। শেফা। সর্বরোগের মহৌষদ। যতদিন মক্কায় অবস্থান করবেন ততদিন টানা জমজম কূপের পানি পান করলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের কারো পেটের কোনো সমস্যা থাকলে, গ্যাস্ট্রিক, আলসার কিংবা অন্যান্য রোগবালাই থাকলে আল্লাহ শেফা দান করবেন।

চেষ্টা করবেন যার যার সামর্থ অনুযায়ী দান করতে। এখানে যেমন এক রাকাত নামাজে এক লক্ষ রাকাত নামাজের সওয়াব পাওয়া যায় তেমনি এক টাকা দান করলেও লক্ষ টাকার সওয়াব পাওয়া যায়। আমাদের সবারই এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। তবে এখানে কোথাও কোন দানবাক্স পাবেন না। কোনো দরিদ্র ভিক্ষুকও পাবেন না। তাহলে কাকে দান করবেন? হারাম শরিফে দেখবেন অনেক লোক খাদেমের কাজ করছে। ঝাড়া-মোছা করছে। জারে পানি ভরছে। বাথরুম পরিষ্কার করছে। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের। অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। দেশে যাদের তেমন অর্থবিত্ত নেই। এদেরকে দশ রিয়াল, পাঁচ রিয়াল, যা পারেন দান করবেন। এরা খুশি হয়ে আপনার জন্য দোয়া করবে। অনেকে দেখে দেখে বাংলাদেশিদেরও দান করতে চান। সেটিও করতে পারবেন। তাতে সওয়াব বরং আরও বেশিই হবে।

আর একটি কথা, এখানে দেখবেন স্থানীয় লোকজন হাজি সাহেবদের অনেক আদর-আপ্যায়ন করবে। বিশেষ করে মোড়ে মোড়ে বোতলজাত ঠাণ্ড পানি সরবরাহ করবে। কেউ কেউ পবিত্র জমজমের পানির বোতলও সরবরাহ করবে। এরকম ইনটেক পানির বোতল পেলে সেটি ব্যবহার না করে রেখে দিবেন। দেশে গিয়ে আপনার নিকট-জন কাউকে এই এক বোতল পানি দিলে সে এতটাই খুশি হবে যে, আপনি তার জন্য লক্ষ টাকার উপহার নিয়ে গেলেও এতটা খুশি হবে না।

আমাদের বাস গন্তব্যে পৌছার পর হোটেলে কি কি করণীয় আছে সে সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত দিক নির্দেশনা দিয়ে মওলানা সাহেব কথা শেষ করলেন। আমার কাছে তাঁর কথাগুলো খুবই যৌক্তিক এবং বাস্তবধর্মী মনে হলো। মনে হলো তিনি একজন আধুনিক মানুষ। সৌহার্দপূর্ণ এবং উদার মানবিক মানসিকতার মানুষ। আমাদের সব আলেমই যদি তাঁর মতো এমন সৌহার্দপূর্ণ উদার মানসিকতাসম্পন্ন হতেন তাহলে আমাদের মধ্যে ইসলামের ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে পারস্পরিক এত হানাহানি হতো না।

কথা ছিল আমরা হোটেলে পৌঁছে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খাবো। তারপর রাতেই পবিত্র ওমরা পালন করবো। কিন্তু মওলানা মজির উদ্দিন সাহেব বললেন, দীর্ঘ ভ্রমণে আমরা সবাই মোটামুটি ক্লান্ত। তাই আমরা রাতে আর ওমরা করতে বের হবো না। আগামী কাল সকালে সবাই একসাথে ওমরা পালন করবো ইনশাআল্লাহ। হোটেলে পৌছে মাগরিব এবং এশার নামাজ আমরা রুমে অথবা হোটেলের নামাজ-ঘরে পড়ে নিবো। সকালে ফজরের নামাজও আমরা হোটেলেই পড়বো। চাইলে কেউ হারাম শরিফে যেতে পারেন। তবে একা যাবেন না। কম পক্ষে দুজন একসাথে যাবেন। কোথাও কেউ একা একা যাবেন না। কম পক্ষে দুজন করে যাবেন, যাতে হারিয়ে গেলে অন্তত একজন আর একজনকে সাহায্য করতে পারেন।

আমরা কেউ কেউ বললাম, হুজুর! আমরা রাতেই ওমরা পালন করতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা কেউ ক্লান্ত হয়নি।

সত্যিকার অর্থেই এই দীর্ঘ যাত্রার পরও আমাদের কারো চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনো ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছিল না।
মুআল্লিম সাহেব মুচকি হেসে বললেন, আমাদের সাথে অনেক বয়ষ্ক লোকজনও আছেন। মা-বোনরা আছেন। অনেকে অসুস্থও আছেন। তাঁদের দিকটা বিবেচনা করে আমার মনে হয় সকালে ওমরা করাটাই ভালো।
তাঁর কথায় আমরা সবাই সম্মতি দিলাম।

আমাদের গাড়ি অনেক আগেই মক্কা শহরের ভেতর প্রবেশ করেছে। তন্ময় হয়ে মওলানা সাহেবের বক্তব্য শুনছিলাম তাই বুঝতে পরিনি। মওলানা মজির উদ্দিন সাহেব জানালা দিয়ে ইশারা করে দেখালেন, ওই যে আয়শা মসজিদ দেখা যাচ্ছে। বিদায় হজ্জের সময় রাসুল (সাঃ) মা আয়শা (রাঃ)-কে তাঁর ভাইয়ের সাথে এখানে পাঠিয়েছিলেন এহরাম বাঁধার জন্য। তিনি এখান থেকেই এহরাম বেঁধে পবিত্র হজ্জ আদায় করেন। তাই কোন কোন হাজীসাহেবান এখান থেকে এহরাম বেঁধেও ওমরা পালন করেন। আমরা এটি জিয়ারায় আসবো ইনশাআল্লাহ।

আমরা সবাই গলা বাড়িয়ে বাসের জানালা দিয়ে আয়শা মসজিদ দেখলাম। বৈদ্যতিক আলোয় কেমন ঝলমল করছে!
আরও কিছুক্ষণ পর দেখা গেলো ঝলমলে আলোয় ঘেরা সুউচ্চ টাওয়ার।

মজির উদ্দিন সাহেব বললেন, ওই যে ক্লক টাওয়ার। আমরা প্রায় আমাদের হোটেলের কাছাকাছি চলে এসেছি।
কাফেলার সবাই যেন আড়মোড়া ভেঙ্গে বসলেন। বাসের ভেতর একটা স্বস্তিদায়ক চাঞ্চল্য চোখে পড়লো।
পুরো মক্কা শহর জুড়ে অসংখ্য পাহাড়ি চড়াই-উৎরাই। একটা বৃত্তাকার রাস্তা চক্কর দিয়ে এরকম একটা উৎরাইয়ের গলার কাছে আমাদের বাস এসে থামলো। তখন মক্কার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা। আমাদের ঘড়িতে ঢাকার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটা। আমরা কেউ বাস থেকে নামলাম না। ভেতরেই বসে রইলাম। কারণ মুআল্লিম সাহেব আমাদের আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বাস থামার সাথে সাথেই আমাদের নামা যাবে না। সৌদি এজেন্সি-প্রতিনিধি মুয়াল্লিমগণ কিছু প্রয়োজনীয় ফর্মালিটিজ বাসেই সম্পন্ন করবেন। তারপর আমাদের নামার অনুমতি দিলে আমরা নামবো।

সৌদি এজেন্সি-প্রতিনিধি আমাদেরকে ফুল এবং চকলেট দিয়ে বরণ করলেন। তারপর আমাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নিলেন। একই সাথে প্রত্যেকের এক হাতের কব্জিতে প্লাস্টিকের প্রিন্টকরা একটা ব্যান্ড পরিয়ে দিলেন। এর মধ্যে আরবি ভাষায় হজ্জযাত্রীর নাম-ঠিকানা, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, উভয় দেশের এজেন্সির নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার এবং কিউআর কোড প্রিন্ট করা। পুরুষ সহকর্মীর পাশাপাশি দুজন নারী সহকর্মীও ব্যান্ড পরানোর কাজ করছে। নারী হজ্জযাত্রীদের হাতে ব্যান্ড পরানো শেষ হলে নারী সহকর্মীরা পুরুষ হজ্জযাত্রীদেরও কারো কারো হাতে ব্যান্ড পরিয়ে দিলো।

আমরা এক এক করে বাস থেকে নেমে হোটেলের লবিতে জড়ো হলাম। লবিতে সবাইকে গলায় ঝোলানোর জন্য একটা করে লেমিনেটেড কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সেই কার্ড গলায় ঝোলানোর আগে আবার একটি একটি করে মোবাইলে স্ক্যান করে কপি রাখা হচ্ছে। তারপর সেই হাজী সাহেব রুমের চাবি পাচ্ছেন। কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ বলে বেশ জটলা হয়ে গেছে। যদিও একাধিকজন এই কাজ করছেন তারপরও প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে গেলো। তাতেও কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা বাঁধলো বেশ কয়েকজনের কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে আমিও একজন। আমি তাতে হতাশ হলাম না। সফরে যে কোনো অবস্থার জন্যই আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি। কারণ ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সফরে একাধিকবার আমি দেখেছি এয়ারপোর্টে, বিশেষ করে ইমিগ্রেশনে আমার কোনো না কোনো সমস্যা হয়-ই। হয়তো আমি পাসপোর্টটা ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে দিলাম ঠিক সেই সময় বিদ্যুৎ চলে গেল। যদিও এয়ারপোর্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের একাধিক ফেস থাকে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেগুলো কাজ করে, তারপরও একটা ধাক্কায় কম্পিউটারের সব ওলটপালট হয়ে যায়। অথবা কর্মরত ব্যক্তি আমার সর্বশেষ ডিপার্চার সার্চ দিয়েছে, কিন্তু নেট কাজ করছে না। ভ্রমণে এরকম বিচিত্র অভিজ্ঞতা আমার আছে। তাই আমি কোনো উৎকণ্ঠা বোধ করলাম না। তবে যারা কার্ড পাননি তাঁদের অনেকেই অস্থির হয়ে পড়লেন। সত্যিই তো কী করা যায়?

শেষমেশ সিদ্ধান্ত হলো যাঁরা কার্ড পাননি তাঁরা যাঁরা কার্ড পেয়েছেন তাঁদের সাথে আজ রাতে রুম শেয়ার করবেন। কালকের মধ্যে আপনাদের কার্ড চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

সাধারণত হজ্জ কাফেলার সবাইকেই রুম শেয়ার করতেই হয়। কোনো কোনো রুম তিন বেডের। কোনোটা চার বেডের। ছয় বেডের রুমও আছে। শুধু আমাদের রুমটাই দুই বেডের। যার যার রুম ঢাকা থেকেই বণ্টন করা হয়েছে। আজ রাতের জন্য একটু এদিক সেদিক করে মোটামুটি সবারই রুমের ব্যবস্থা হয়ে গেল। আমার স্ত্রী যেহেতু কার্ড পেয়েছেন তাই আমাকে আর অন্য কারো সাথে রুম শেয়ার করতে হলো না। আমরা চাবি নিয়ে লিফটে সোজা চলে এলাম এগার তলার আমাদের বরাদ্দকৃত ১১০৩ নম্বর রুমে। (ক্রমশ…)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *