
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার খুলনায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক, মালিক, কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন।
খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. হাফেজ আহাম্মদ মজুমদার। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও আড়ংঘাটা এলাকার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ১৪০ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
