
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদনটি খারিজ করে দেয়, যার ফলে তার সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড় আপাতত থমকে গেল।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার শুনানির পর সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে, আইনগত জটিলতার কারণে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রটি বাতিলই থাকছে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। বাতিলের মূল কারণ ছিল সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্ধারিত তিন বছর সময় অতিবাহিত না হওয়া। তথ্যমতে, মনিরা শারমিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন, অথচ এর আগেই ওই বছরের মার্চ মাসে তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সরকারি চাকুরে হিসেবে পদত্যাগের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী আইনের সরাসরি পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করেন, তবে সেই সময় থেকে তিন বছর পার না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও এই আইনটি সমভাবে প্রযোজ্য। মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পূরণ না হওয়ায় আইনি মারপ্যাঁচে তার মনোনয়নপত্রটি আপিলেও টিকতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১১ দলীয় জোটের এই প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
