
|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে না রেখে এই বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার মহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। বিএনপির রাজনীতি মূলত সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি এবং নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও পূরণ করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘উলসী-যদুনাথপুর’ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত ৫০ বছর ধরে অবহেলায় ভরাট ও দখল হয়ে থাকা এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে বাড়তি প্রায় ১৪০০ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হবে। খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি পানি প্রবাহ নিশ্চিত হলে স্থানীয় নারীরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করতে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খননের মহাপরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
একইসঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসারে ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা অবৈতনিক করা এবং মেধাবীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য মাসিক আড়াই হাজার টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং রান্নার কষ্ট লাঘবে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষিঋণ মওকুফের ওয়াদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার মাহেন্দ্রক্ষণ। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও রাজনৈতিক দল গণ-অভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে নিতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে যারা হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, তাদের বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান দিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন এবং স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে উলসী খালের ওপর একটি আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
