
|| বরিশাল প্রতিনিধি ||
সরকারি হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বদলে খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. লুৎফুল আজিজ নিজেই মেতেছেন ক্লিনিক ব্যবসায়। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ‘হামিদ মেমোরিয়াল’ নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সাথে তার সরাসরি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ এবং সরকারি চাকরি বিধিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. লুৎফুল আজিজ হামিদ মেমোরিয়াল ক্লিনিকের জন্মলগ্ন থেকেই এর শেয়ার হোল্ডার হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার অতি ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য মতে, ক্লিনিকের ব্যবসায়িক তদারকি ও নিয়মিত লভ্যাংশ সংগ্রহের বিষয়ে তিনি সরাসরি যুক্ত। এমনকি সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে ক্লিনিকটির ব্যবসায়িক প্রসারে তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ১৭ নং বিধি অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা কোনো প্রকার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গ্রহণ বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। এছাড়া দণ্ডবিধির ১৬৮ ধারা অনুযায়ী, বেআইনিভাবে ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ডা. আজিজের ক্ষেত্রে এই উভয় বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইউএইচও-র ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসার খেসারত দিতে হচ্ছে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের। নিজস্ব ক্লিনিকের মুনাফা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের পরোক্ষভাবে ওই ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে সরকারি চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. লুৎফুল আজিজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার একটি অডিও ক্লিপ তার নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে এই প্রতিবেদকের হাতে পৌছেছে যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকারি কর্মকর্তারা অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করতে পারেন’। তার এমন দাবিকে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আইনজ্ঞরা আইনবহির্ভূত ও হাস্যকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বার্থের সংঘাত ও পেশাগত নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে লিপ্ত হওয়া এই ‘ক্লিনিক সিন্ডিকেট’ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বানারীপাড়ার সাধারণ মানুষ।
