
|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ হয়েছে কোনো সার্চ কমিটি ছাড়াই। এটি নিয়ে কমবেশি কিছু আলোচনা সমালোচনা পর্যালোচনা হয়েছে বটে।
বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ভিসি নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। বিষয়টি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে দেশের প্রাজ্ঞজনরা মনে করেন।
তবে সার্চকমিটি গঠন নিয়ে উচ্চ শিক্ষিত মহল হতভম্ব হয়েছে। কারণ দেশের সরকারি বেসরকারি মিলে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মোট শিক্ষকের এক চতুর্থাংশেরও বেশি প্রফেসর। আবার প্রফেসরদের এক চতুর্থাংশের বেশি হলো গ্রেড-১ প্রফেসর। যাদের সংখ্যা দেড় সহস্রাধিকের কম নয়।
অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর গ্রেড-১ অবসরপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর মিলে এ সংখ্যাও শতাধিক হবে নিশ্চিত।
উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা সম্পন্ন। তাকে সভাপতি করে সাবেক দুজন ভাইস চ্যান্সেলর, একজন ইউজিসির সিনিয়র সদস্য, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রাজ্ঞ প্রফেসরকে দিয়ে কমিটি করা যেত। একজন সচিবকে রাখলে তাকে কমিটির সভাপতি নয় বড়জোর সদস্য সচিব করা যেত।
দেশে প্রফেসরের সংখ্যা এত হ্রাস পেয়েছে যে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সভাপতি করার মতো যোগ্য কোনো প্রফেসরকে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পদে প্রধান নিয়োগ কমিটির প্রধান করতে হচ্ছে একজন সচিবকে? এ দেশের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে এটা অপমান না সম্মানজনক বিষয় দেশের সচেতন নাগরিকরাই গবেষণা করে বের করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচাইতে সেরা ছাত্রগণ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট গোল্ড মেডালিস্ট এরাই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে থাকেন। যোগদানের পর থেকে এরা শিক্ষকতা পেশার সাথে সাথে দেশ-বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী-পিএইচডি পোস্ট ডক্টরেট আর্টিকেল গ্রন্থ গবেষণা সেমিনার সিম্পোজিয়াম কনফারেন্স ওয়ার্কশপ পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান ইত্যাদি উচ্চতর একাডেমিক কাজের সাথে জড়িত থাকেন। যেটা একজন সচিবের ক্ষেত্রে কল্পনাই করা যায় না।
একটি বিষয় সত্য যে সচিবগণ শিক্ষকদেরই সাবেক ছাত্র। কিন্তু শিক্ষা বিষয়ক কমিটিতে সচিবগণ থাকলে সাধারণত তাদের শিক্ষাগুরুদের প্রাপ্তি বিষয়ে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা দেখা যায় না। শিক্ষকদের প্রাপ্তি সবচাইতে কম হোক এজন্যই মনে হয় তাদেরকে সরকার নিয়োগ দিয়েছেন।
সে যাই হোক, ইউজিসির চেয়ারম্যান/বিশ্ববিদ্যালয়ের সে ধরনের একজন একাডেমিক পণ্ডিতকে সভাপতি করে সার্চ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং ট্রেজারার নিয়োগ দানের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে দেশ জাতি আশা করে।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
