
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদন সামনে এসেছে। তেহরানভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সির কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী ৮০টি থিঙ্ক ট্যাংকের গত এক মাসের প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই নতুন সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন গবেষকরা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক সরঞ্জামের দিক থেকে পশ্চিমা জোট প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হানতে পারলেও কৌশলগত যুদ্ধে তারা মূলত পরাজয়ের সম্মুখীন। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া বা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটানোর যে লক্ষ্য পশ্চিমা জোট নিয়েছিল, তা বাস্তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত চতুরতার সাথে একটি ‘অসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) পরিচালনা করে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পশ্চিমা জোটের সামরিক ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও সামরিক মর্যাদাকে বিশ্ববাসীর সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, চ্যাথাম হাউস, র্যান্ড কর্পোরেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংঘাত এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সময়ের বিবর্তনে ইরান দিন দিন সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে।
থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর মতে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে এখন দুটি মাত্র পথ খোলা আছে। প্রথমত, একটি কৃত্রিম প্রচারণামূলক বিজয় সাজিয়ে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করা; অথবা কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘোষণা করা।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এশিয়ার প্রভাবশালী থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তিগুলোর দীর্ঘদিনের একতরফা আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের মোড় সম্পূর্ণ নিজেদের অনুকূলে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখন পশ্চিমা জোটের জন্য চরম অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
