
|| মোহাম্মদ রাজিবুল হাসান | নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) ||
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ও ঐতিহাসিক দিগন্তের সূচনা করে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও মাসিক এক লাখ টাকা হারে ‘ক্রীড়া ভাতা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হলো। এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১২৯ জন নির্বাচিত ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভাতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গৌরব বয়ে আনা ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষায়িত ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং এককালীন অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণপদকজয়ীরা ৩ লাখ, রৌপ্যজয়ীরা ২ লাখ এবং ব্রোঞ্জপদকজয়ীরা ১ লাখ টাকা পাবেন; একইভাবে দলগত ইভেন্টেও পদক অনুযায়ী বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের মেধা ও পরিশ্রম বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও খেলাধুলাকে একটি নিশ্চিত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পরিবার যেমন সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা পাবে, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হবে। প্রবর্তিত এই ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের উন্নত প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, বিদেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাবেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে জানান যে, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি’-র আদলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম চালু করা হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়াও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
