
|| ইবি প্রতিনিধি ||
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মচারী কর্তৃক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা এবং শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর উল্লেখযোগ্য সময় পার হয়ে গেলেও বিচারহীন দিন কাটাচ্ছে নিহতদের স্বজনেরা। এমন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভর্তি পরীক্ষার দিনে আগত হাজারো অভিভাবক তাদের সন্তানদের জীবনের সুরক্ষা নিয়ে প্রশাসনের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আসা হাজারো অভিভাবকের মনে এই ঘটনাগুলো গভীর ভীতির সঞ্চার করেছে। তারা তাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিয়েও এক অজানা আতঙ্কে ভুগছেন।
রাজশাহী থেকে আসা এক পরীক্ষার্থীর মা জানান, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় বাড়ির মতো নিরাপদ হওয়ার কথা থাকলেও, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কিছু মর্মান্তিক ঘটনা সেই বিশ্বাসকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেই নিজ কর্মচারীর হাতে একজন সম্মানিতা শিক্ষিকার (ম্যাডাম) নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, মনোরম এই ক্যাম্পাসের বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে কতটা নিরাপত্তাহীনতা লুকিয়ে আছে।”
কুমারখালী থেকে আগত ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীর পিতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ খুবই সুন্দর, কিন্তু কিছুদিন পূর্বে এক কর্মচারীর দ্বারা এখানে যে ম্যাডামের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং সাজিদ আব্দুল্লাহর মতো তরুণের অকালে প্রাণ ঝরেছে, তা আমাদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন নিরাপত্তার দিকটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিক। শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, অভিভাবক হিসেবে আমরা কখনোই নিশ্চিন্তে সন্তানদের এই বিদ্যাপীঠে রেখে যেতে পারব না।”
