
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
গত ১২ দিন ধরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলা সত্ত্বেও দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা দেখছে না ওয়াশিংটন। অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরানি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখনো বেশ শক্তিশালী। উপরন্তু, বিদেশি শক্তির এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
গত ২৮ অক্টোবর তেহরানে যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আইআরজিসি’র শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার মতো বড় ধাক্কা খায় তেহরান। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ইতোমধ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদগুলো পূরণ করে সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণভাবে সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল এই সরকার পতন দেখতে মরিয়া হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠাতে আগ্রহী নন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইআরজিসি-কে দুর্বল করতে ইরাকভিত্তিক বিদ্রোহী কুর্দি যোদ্ধাদের মাঠে নামানোর একটি পরিকল্পনা থাকলেও তা নিয়ে ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। কুর্দি নেতাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি জানানো হলেও তাদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান মার্কিন প্রশাসন।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সব মিলিয়ে আকাশপথে নজিরবিহীন হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের হারিয়েও ইরান সরকার এখনো নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তর।
