বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২

ইরানের পাল্টা হামলায় ১৭ মার্কিন সামরিক স্থাপনা তছনছ, প্রাণ গেল ৭ সেনার

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের জেরে এই পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ওই অঞ্চলে আমেরিকার অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের বিবৃতির ভিত্তিতে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ে ছয়জন সেনা নিহত হন।

একই দিনে সৌদি আরবের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক হামলায় আরও একজন সেনার মৃত্যু হয়। ইরানের এই অতর্কিত ও তীব্র আক্রমণের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি আল-উদেইদসহ প্রিন্স সুলতান, আলী আল-সালেম এবং ক্যাম্প বুহরিংয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলো একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই হামলার ফলে তারা বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

হামলার ভয়াবহতা কেবল প্রাণহানিই নয়, বরং মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপরও বড় আঘাত হেনেছে। কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে মাত্র একটি হামলায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘থাড’ রাডার সিস্টেম এবং কাতারে অবস্থিত ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক দীর্ঘ পাল্লার রাডার ইউনিট ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণার চেয়েও ইরান অনেক বেশি সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *