
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
নাগেশ্বরী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডের জনতা ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রোপচারে জেসমিন বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও নাগেশ্বরী পৌরসভার মাজারপাড়ার আতাউর রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগমসহ কয়েকজন রোগীর ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহকালে জনতা ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, উপরের মূল ফটকে তালা ঝুলানো এবং ভেতর থেকে রিপোর্টারের পরিচয় পেয়ে কর্মরত স্টাফরা রুমে আত্মগোপন করেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৩টায় জনতা ক্লিনিকে পরপর দুইবার ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে জেসমিন বেগমের মৃত্যু হয়। তবে নবজাতক ছেলে সন্তান সুস্থ রয়েছেন।
নিহত জেসমিন বেগম নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌরসভার জুম্মাপাড়া (মুন্সিপাড়া)’র হোটেল শ্রমিক সালমান হোসেনের স্ত্রী এবং নাগেশ্বরী পৌর ২নং ওয়ার্ডের ষোলরখামার এলাকার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। মাত্র আড়াই বছর আগে জেসমিন ও সালমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এটিই ছিল প্রথম সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৮ মার্চ) অনুমান রাত ৭টায় প্রসব বেদনা শুরু হলে জেসমিন বেগমকে বাসস্ট্যান্ডের জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর রোগীকে কোন প্রকার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত ৮টার দিকে তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার (সিজার) করেন নাগেশ্বরী হাসপাতাল সংলগ্ন স্থায়ী বাসিন্দা গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ মাহমুদা খাতুন (মুক্তা)। জেসমিন একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেও অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পর পেটের অসহ্য যন্ত্রণায় চীৎকার করতে থাকে। এমতাবস্থায় জনতা ক্লিনিকে স্বত্বাধিকারী ফ্যাসিস্ট মতিয়ার রহমান ওই ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন সিজারের সময় তার পেটে ছুড়ি রেখে সেলাই করা হয়েছে। সেদিনই রাত ১১টার দিকে তড়িঘড়ি করে দ্বিতীয়বার জেসমিন বেগমের অস্ত্রপাচার করে পেট থেকে ছুড়ি বের করেন। এরপর রাত ২টায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রতিমধ্যে রাস্তায় রাত ৩টায় মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনতা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান ও ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্বামী সালমান হোসেন বলেন, জনতা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান ও ডাক্তারের অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তবে আমার নবজাতক পুত্র সন্তান সুস্থ রয়েছে।
জনতা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। নিউজ করার প্রয়োজন নেই। দেখা করেন।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বস্তুনিষ্ঠা সংবাদ প্রকাশ করেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
