
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন ভয়াবহ এক সম্মুখ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক ঘোষণায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ (Open War) শুরুর কথা জানিয়েছেন। এই ঘোষণার পরপরই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা পাকিস্তানের বিমান হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর: আল জাজিরার।
দুই দেশের দীর্ঘ সীমানা অর্থাৎ ‘ডুরান্ড লাইন’ বরাবর এখন চলছে ভয়াবহ লড়াই। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছেন। সীমান্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিচ্ছিন্ন উত্তজনা এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিল।
উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির দাবি:
সংঘর্ষের তীব্রতা এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে:
- পাকিস্তান: ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তাদের অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে মাত্র ২ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
- আফগানিস্তান: তালেবানের দাবি অনুযায়ী, লড়াইয়ে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তাদের নিজেদের মাত্র ৮ জন যোদ্ধা মারা গেছে।
স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে এই হতাহতের সংখ্যার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডুরান্ড লাইনের দুই পাশেই যুদ্ধের দামামা এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বের উদ্বেগ:
হঠাৎ করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মুসলিম দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশ। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়তে পারে।
