
|| নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ছাত্র নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র ফলাফল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে “ছয়টি আসন, বড় লক্ষ্য: বাংলাদেশের ছাত্র নেতৃত্বাধীন দল এনসিপি-র ভবিষ্যৎ কী?” শিরোনামে একটি বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আল জাজিরার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের একটি ছোট অংশীদার হওয়া—নতুন এই রাজনৈতিক দলটি (এনসিপি) বাংলাদেশের কঠিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অভ্যুত্থান থেকে সংসদে
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর, যা দীর্ঘদিনের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, সেই আন্দোলনের ছাত্রনেতারা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন। দলটির নেতারা ব্যাপক জনসমর্থন এবং ভালো নির্বাচনী ফলাফলের আশা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে না পারায় জনমত জরিপে তাদের সমর্থন ছিল মাত্র এক অঙ্কের ঘরে।
শেষ পর্যন্ত এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে একটি নির্বাচনী জোট করে এবং মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টি আসনে জয়লাভ করে। যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ জয় পায় এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৭টি আসন।
জোটের রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ ভাঙন
জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তটি এনসিপি-র ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে। জোট ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, আদর্শগতভাবে ভিন্ন একটি দলের সাথে জোট করলে এনসিপি-র গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। তবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ একে একটি ‘নির্বাচনী কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তাদের আদর্শ জামায়াতের থেকে ভিন্ন।
তৃতীয় শক্তি হওয়ার চ্যালেঞ্জ
এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমানে ঢাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিরোধী জোটের প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিশ্লেষকরা দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলীর মতে, এনসিপি এখন পর্যন্ত জামায়াতের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র কোনো এজেন্ডা তুলে ধরতে পারেনি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম মনে করেন, সংসদে তাদের এই প্রবেশ একটি ‘ইতিবাচক সূচনা’ হলেও শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
দলের সমর্থকরা মনে করছেন, মাত্র ১১ মাস বয়সী একটি দলের জন্য ৬টি আসন পাওয়া একটি বড় অর্জন। তারা বিশ্বাস করেন, সামনের নির্বাচনগুলোতে এনসিপি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। দলের নেতা এস এম সুজা উদ্দিনের মতে, মানুষ পরিবর্তনের জন্য ক্ষুধার্ত এবং এনসিপি সেই পরিবর্তনের প্রতীক হতে চায়।
তবে দলটির প্রকৃত পরীক্ষা হবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, যেখানে তারা স্বতন্ত্রভাবে লড়তে চায়। জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা কতটুকু সফল হতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
