
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ সুন্দরবন সুরক্ষায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে স্বতন্ত্র বরাদ্দ রাখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপন বন্ধ, বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং এ ইস্যুতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জনউদ্যোগ, খুলনার আয়োজনে খুলনা সিভিল সোসাইটির কার্যালয়ে “সুন্দরবন সুরক্ষা, বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক শিক্ষক নেতা মানস রায়। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন কেবল একটি বনভূমি নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক ঢাল। প্রলয়ংকরী ঝড় ও সুপার সাইক্লোনের আঘাত থেকে যুগের পর যুগ এই বন অঞ্চলকে রক্ষা করে আসছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এটি জীববৈচিত্র্যের আধার এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন ভাণ্ডার। লাখো মানুষ মাছ, মধু, গোলপাতাসহ বিভিন্ন সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি বনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও এর অবদান উল্লেখযোগ্য।
সভায় বক্তারা সতর্ক করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও মানবসৃষ্ট নানা ঝুঁকির কারণে বন ও এর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
অবৈধ কাঠ কাটাসহ বন্যপ্রাণী শিকার ও বনভূমি দখল কঠোরভাবে দমন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানানো হয়। UNESCO–র সুপারিশ অনুযায়ী সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘিরে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন বক্তারা। বনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে জীবিকার প্রয়োজনে বন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এছাড়া সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও দেশীয় দ্রুত বর্ধনশীল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনের ঘনত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।
সভায় বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
