বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের রমজান উদযাপনের চেষ্টা

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসন ও ধ্বংসলীলার মধ্যেই এক বিষণ্ণ পরিবেশে গাজায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, চরম আর্থিক সংকট এবং বাস্তুচ্যুতির অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাণের স্পন্দন টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে গাজায় শুরু হওয়া এই রমজান ঘিরে সেখানকার জনজীবনে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে বেঁচে থাকার অদম্য আকুতি। খবর: আল জাজিরার।

গাজা সিটির বাসিন্দা ফিদা আইয়াদ জানান, পরিবার ও প্রিয়জনদের হারানোর পর হৃদয়ে কোনো আনন্দ অবশিষ্ট নেই। পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করলেও রমজানের সেই চিরচেনা আমেজ তারা অনুভব করতে পারছেন না। যুদ্ধের কারণে গাজার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের হাতে নেই কোনো নগদ অর্থ।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিদ জাকজুক জানান, যুদ্ধের আগে মানুষ একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। কাজ না থাকায় এবং হাতে টাকা না থাকায় অনেকেই ইফতার ও সেহরির ন্যূনতম সরঞ্জামটুকু সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এর সাথে যোগ হয়েছে হাড়কাঁপানো শীত ও ভারী বৃষ্টিপাত। তীব্র ঠান্ডায় বাস্তুচ্যুত শিবিরের শিশুদের মৃত্যু এবং বৃষ্টির পানিতে তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার ঘটনা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করেছে। গাজা সিটির রায়েদ কুহিল স্মৃতিচারণ করে বলেন, যুদ্ধের আগের রমজানে গাজার প্রতিটি রাস্তা আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকত, শিশুদের মনে থাকত আনন্দ। কিন্তু এবার চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর হাহাকার।

তবে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছেন কিছু অকুতোভয় মানুষ। খান ইউনিসের ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্যালিগ্রাফার হানি দাহমান আরবিতে ‘স্বাগতম রমজান’ লিখে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের রডের সঙ্গে রমজানের ঐতিহ্যবাহী রঙিন বাতি ঝুলিয়ে এক টুকরো আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।

দাহমান বলেন, “আমরা বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাই যে, আমরা ধ্বংসের মাঝেও জীবনকে ভালোবাসি।”

ধ্বংসস্তূপের মাঝে এমন ক্ষুদ্র উদযাপন গাজার মানুষের অদম্য মানসিকতা ও হার না মানা প্রতিরোধেরই প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *