বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা নয়: নির্বাচন হোক ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মাইলফলক

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনটি যেমনি আনন্দের তেমনি এ দেশ জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের এক অপূর্ব নিদর্শন।

যেখানে প্রতিযোগিতা সেখানেই জয় পরাজয়। সেটা খেলাধুলা বা নির্বাচন যাই হোক না কেন সেখানে হার-জিত থাকবেই।

এবারই দেশে প্রথম নির্বাচন নয়। এর আগে আরো বারোটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। সব দেশেই নির্বাচন হয়। দু একটি দেশ ছাড়া এ নির্বাচনগুলোর ফলাফল মোটেই সুখকর হয় না।

জয়ীরা যেমন বিজিতদের প্রতি অসহনশীল হয় বিজিতরাও জয়ীদেরকে অন্তর থেকে মেনে নিতে পারে না। সমস্যা হয়ে যায় এখানেই।

তার মানে নির্বাচনে রাজনীতির প্রতিযোগিতা কোনোটিই দেশ জাতির জন্য নয়; একান্তই রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত ও দলীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর জয়ী হওয়াটা ক্ষমতার উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।

নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিয়েছে নির্বাচনের পূর্বে কে কার পক্ষে ছিল কে কার বিরুদ্ধে ছিল কে কার ক্ষতি বা লাভ করেছে জয়ী দল তখন এই হিসাব নিকাশগুলো কষতে থাকে।

ক্ষমতায় আসার পর দেশ জাতির উন্নয়নের পরিবর্তে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে নির্যাতন জুলুম অত্যাচার ঘর ছাড়া বাড়ি ছাড়া দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া দেশের সকল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা পারলে দেশ থেকে বাধ্য করা হয়ে থাকে।

এ ধরনের কৃষ্টি কালচার কোন আদর্শ রাজনীতিবিদদের হতে পারে না।

এবারের নির্বাচনে দুটি প্রধান দল মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দিতা করছে। দু একটি জায়গা ব্যতীত প্রায় সবখানেই পরস্পর পরস্পরের প্রতি শত্রুতাভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে।

কাজেই জয়ী দল বিজিতদের প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণ না করে সদয় আচরণ করবে এটা হলফ করে বলা যায় না। সেটা দু’দলের যে কেউই জয়ী হোক না কেন।

বিএনপি একটি মধ্যমপন্থী দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এ দলের প্রধান ছিলেন দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী আপসহীন অবিসংবাদিত নেতা জননেত্রী খালেদা জিয়া। বর্তমানে দায়িত্ব রয়েছেন এ দু মহান ব্যক্তিত্বের ঐতিহ্যের ধারক বাহক জনাব তারেক রহমান।

জামায়াতে ইসলামী দেশের বৃহত্তম ইসলামী সবচাইতে প্রাক্তন দল এবং বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাদের আদর্শ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চাইতে ভিন্ন।

দুই দলেরই রাজনৈতিক ধারা বৈশিষ্ট্য আলাদা ভিন্ন হলেও উভয়টিই এ দেশ জাতির সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উভয় দলকে বর্তমান দেশ জাতি যেভাবে গ্রহণ করেছে, যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন কেউই যেন দেশ জাতির আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে। এ ক্রান্তি লগ্নে এটাই দেশজাতির প্রত্যাশা।

ত্রয়োদশ নির্বাচন সহিংসতার নয়; হোক ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মাইলফলক। তাহলেই কেবল এই দেশ জাতি এগিয়ে যাবে অন্যথায় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *