বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১

কারাগার হোক শিক্ষাগার

জেল, কারাগার বা ডিটেনশন সেন্টার—বিভিন্ন নামে এটি পরিচিত।

বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৯টি জেলা কারাগারসহ মোট ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪২,৪৫০ জন হলেও, ৭০হাজার বেশি বন্দি রয়েছে।

কারাগার বা জেলখানা হলো এমন একটি বিশেষ স্থান বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিচার বিভাগীয় আদেশে অপরাধী বা বিচারাধীন ব্যক্তিদের স্বাধীনতা হরণ করে বন্দি রাখা হয়। এটি অপরাধীদের সংশোধনের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে।

প্রধান কার্যাবলী: বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি সহায়তা প্রদান, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর হাতে ১৩ হাজার কপি বই হস্তান্তর করেন প্রায় ৭০ হাজার কয়েদি ও হাজতির নৈতিক উন্নয়ন ও মানসিক পরিবর্তন, কয়েদিদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডেে নামাজের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ধর্মীয় ও নৈতিকতাভিত্তিক বই, জায়নামাজ এবং অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করেন ।

আমাদের দেশের কারাগারগুলোর বাস্তব চিত্র কারাগার কোডের উদ্দেশ্যের কতটুকু বাস্তবায়ন হওয়া সেটা জেল থেকে ছাড়া পাওয়াদের দেখলেই বোঝা যায়।

ছেচরাচোর কারাগারে ঢুকে কারাগার থেকে বের হয়ে পুকুর চুরি করে। হত্যার উদ্দেশ্যে ধৃত অপরাধী কারাগার থেকে বের হয়ে দু দশটা খুন করা তার কাছে পান্তা ভাতের মত। এটাই পুরো দেশের বাস্তব চিত্র। তবে হ্যাঁ দু চার জন যে ভালো হয় না সেটা নয়। কিন্তু তাদের সংখ্যা একেবারে হাতে গনা।

কারাবাসীদের জন্য কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য ধর্ম উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই।

কারাগার পুরোটাই শিক্ষাকার হোক। শাস্তি ভোগ করার পর কারাবাসীরা মুক্তি পেয়ে নতুন জীবনে ফিরে আসুক তারা দেশ জাতির বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হোক এজন্য নিম্নে কয়েকটি প্রস্তাব করছি।

১. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা:
ক. জামাতে সালাতের ব্যবস্থা করা।
খ. প্রতি সালাতের পর আলোচনা/সাপ্তাহিক আলোচনার ব্যবস্থা রাখা।
গ.কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
ঘ.হিফযের ব্যবস্থা করা।
ঙ.নূরানী শিক্ষা চালু করা।
চ.নিরক্ষরদেরকে সাক্ষর জ্ঞানের ব্যবস্থা করা।

২.কর্মক্ষম করতে
ক.হস্তশিল্প কুটির শিল্প শিক্ষা দেওয়া।
খ.কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
গ.প্রয়োজনীয় ভোকেশনাল ট্রেনিং দেওয়া।
ঘ.গৃহপালিত পশু হাঁস-মুরগি লালন পালন শিক্ষা দেওয়া
ঙ. মৎস্য চাষ বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া। চ.প্রাথমিক পশু চিকিৎসা বিষয়ের সচেতন করে তোলা।
ছ. নিজেরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে এ ধরনের শিক্ষা দেওয়া।
জ.মহিলাদের সিলাই মেশিনের ট্রেনিং দেওয়া।

কারা জীবন পুরোটাই অবসর জীবন। এ সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে কয়েদিরা যেমন দেশের সম্পদে পরিণত হবে তেমনি দেশ জাতিও অনেক উপকৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *