|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
দেশের সরকার পরিবর্তন হয়। নীতি পরিবর্তন হয়। হয় স্কুল কলেজ সরকারি। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যে বিমাতা সুলভ আচরণ প্রতিটি সরকারের আমলেই ছিল তা বর্তমান নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এর থেকে পিছিয়ে নেই, বরং আরো দু দশ হাত এগিয়ে রয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাদ্রাসা শিক্ষার জনবল কাঠামোর এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে যেখানে ফাজিল কামিল মাদ্রাসা জনবল কাঠামোতে প্রতি বিষয়ে ২/৩ জন করে শিক্ষক ছিল, সেখানে প্রতি বিষয়ে এবং কর্ম কর্মকর্তা-কর্মচারী সকল স্তরে একজন করে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এটা অতীত সরকারের ধারাবাহিকতা না বর্তমান সরকারের নতুন কোন নীতিমালা নাকি মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংসের পাঁয়তারার সর্বশেষ প্যারেক তা জাতির কাছে স্পষ্ট?
বর্তমানে দেশের কামিল মাদ্রাসা তিন শতাধিক, ফাজিল মাদ্রাসা দেড় সহস্রাধিক, অনার্স মাদ্রাসা শতাধিক রয়েছে। কামিল শ্রেণিতে যেখানে ৫০০ নাম্বারের পরিবর্তে ১৫০০ নাম্বারের সিলেবাস এবং অনার্স পর্যায়ে ৪২০০ নাম্বারের সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে অনার্স এবং কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতে পূর্বের তুলনায় তিনগুণ করে শিক্ষক বেশি হওয়া দরকার।
সেখানে প্রতি বিষয়ের মাত্র একজন করে শিক্ষক অফিসার কর্মকর্তা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে বর্তমান সরকারের বিমাতাসূলভ আচরণের চরম পরকাষ্ঠা প্রদর্শন ছাড়া আর কি হতে পারে?
বিগত স্বৈরসরকারের আমলে শত শত স্কুল কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। সেখানে একটি মাদ্রাসাও সরকারিকরণ করা হয়নি।
হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে, সেখানে একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও তা করা হয়নি।
কলেজগুলোতে ইসলামী শিক্ষা নতুন করে তো কোন অনুমোদন দেওয়াই হয়নি, বরং কোন কলেজে অনার্স মাস্টার্সও মঞ্জুর দেওয়া হয়নি।
বর্তমান সরকারের সময়কাল একেবারে কম নয়। এদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান আশা করেছিল অন্তত এ সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ঘটবে। সরকারিকরণ করা হবে এসব প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু সেটা তো হয়ইনি, বরং জনবল কাঠামোতে কোথাও অর্ধেক কোথাও তিনভাগের দুভাগ হ্রাস করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ অন্তত সরকারের গোধূলিলগ্নে প্রতিটি জেলায় একটি করে ফাজিল কামিল মাদ্রাসা এবং সকল ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারিকরণের নির্দেশনা প্রদান করা হোক।
সকল কলেজের আবেদনকৃত ইসলামী শিক্ষার মঞ্জুরি এবং ইসলামী শিক্ষা নেই এমন কলেজগুলোতে ইসলামী শিক্ষা খোলার নির্দেশনা প্রদান করা হোক।
মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ২০১৮ সালে যেভাবে ছিল সেটা বহাল রেখে ফাজিল অনার্স মাদ্রাসায় প্রতি বিষয়ে ৭জন করে পাস কোর্সে ৩জন করে এবং কামিল মাদ্রাসায় ৬ জন করে শিক্ষক জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা প্রদান করা হোক।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
