বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৫

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হলো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি : বিএনপি নেতা আনিস মৃধা

|| বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি ||

বরিশালের বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নামায় স্থানীয় রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিস মৃধার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করায় জনমনে ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর একটি নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের টানা তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা খলিল চোকদারকে নিয়ে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই ভিডিওটি নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করে বিএনপি নেতা আনিস মৃধা বিতর্কিত এক মন্তব্যে লেখেন, “স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ। এই লড়াই রাজাকার-আলবদর হায়েনাদের বিরুদ্ধে। বাংলার মাটিতে পাকিস্তানি দালালদের কোনো ঠাঁই নেই। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি এক হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।”

এছাড়াও আনিস মৃধা তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে জামায়াতে ইসলামীকে ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীদের কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং পর্দার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বানারীপাড়া পৌর জামায়াতের আমীর কাওসার হোসাইন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গোপন মিশন বাস্তবায়ন করতেই জামায়াতের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদের দোসরদের এ দেশে কোনো স্থান নেই। জামায়াতকে নারীবিদ্বেষী বলা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলা আহ্বায়ক সাব্বির হোসাইন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “শহীদদের রক্ত রঞ্জিত হাতে যারা হাত মেলাচ্ছেন, তারা মূলত জুলাই বিপ্লবের সাথে সরাসরি বেঈমানি করছেন।”

উল্লেখ্য যে, সারাদেশে বর্তমানে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট: ফেজ-২’ এর আওতায় পলাতক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চললেও বানারীপাড়ার এই দুই নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, “আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্য সংগ্রহ চলমান। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ামাত্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *