
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে শিল্পায়ন এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চল, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে একসময়ের শিল্পনগরী খুলনার কারখানা ও মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে, যা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। নতুন শিল্প স্থাপন করে যুবক ও নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। নিয়োগে কোনো আত্মীয়কেন্দ্রিকতা বা পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, বরং ন্যায় ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলেও প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। অতীতে দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতন ও মামলা-হামলার শিকার হলেও প্রতিশোধের পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনীতির নজির স্থাপন করেছে জামায়াত। এ কারণে জামায়াতের সঙ্গে থাকলে সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের জানমাল ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।
নারীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, নতুন বাংলাদেশে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদার সঙ্গে চলার পরিবেশ তৈরি করা হবে। তিনি প্রচলিত রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, অনেক সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর জনগণের সম্পদের দিকে হাত বাড়ান, বিদেশে সম্পদ গড়েন। জামায়াতের প্রতিনিধিরা এমন লুটপাটে জড়াবে না।
খুলনার জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে খুলনাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক সমাধান করা হবে। বিলডাকাতিয়া ও বিলবাদুড়িয়াসহ সব জলাবদ্ধ এলাকা অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার করা হবে।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেকারভাতা দিয়ে মানুষকে ছোট করতে চান না তারা। বরং কারিগরি প্রশিক্ষণ ও নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই জামায়াতের লক্ষ্য।
জনসভায় তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের স্বার্থে নয়, সন্তানহারা মা, ভাই হারানো বোন ও এতিমদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলছি।”
কিছু রাজনৈতিক দলের কার্ড বিতরণের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনাবাসীর পক্ষে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। সভা শেষে খুলনার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সার্কিট হাউজ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন।
