মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭

চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব: দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে শুল্ক বাড়ালেন ট্রাম্প

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

গত বছর স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসির অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর আমদানিশুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা চুক্তিটি কার্যকর করতে বিলম্ব করায় তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার ফলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া অটোমোবাইল, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। খবর: রয়টার্সের।

সিউল জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত। মূলত গত বছরের ৩০ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের মধ্যে একটি নীতিগত চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যে শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেয়।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, “গত ২৯ অক্টোবর কোরিয়া সফরকালেও আমরা এই শর্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছিলাম। কিন্তু তাদের আইনসভা এটি এখনো কার্যকর করেনি, যার ফলে আমি এই শুল্ক বৃদ্ধির নির্দেশ দিচ্ছি।”

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট ‘কুপাং’-এর বিরুদ্ধে দেশটির সাম্প্রতিক কিছু রেগুলেটরি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘোষণা দিয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক বাণিজ্য আলোচক চোই সেওক-ইয়ং মনে করেন, শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের আলোচনায় সিউলকে চাপের মুখে রেখে বাড়তি সুবিধা আদায় করতেই ট্রাম্প এই রাজনৈতিক চাল চেলেছেন।

এই ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার ‘কোসপি’ ইনডেক্সে ১.১৯ শতাংশ দরপতন ঘটে এবং ডলারের বিপরীতে কোরিয়ান মুদ্রার (উন) মান ০.৫ শতাংশ কমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ জানিয়েছে, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির শিল্পমন্ত্রী খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে এই শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীরা ইতোমধ্যে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *