
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আলোকিত দৈনিক ||
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের সাথে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। সর্বশেষ উত্তর গাজায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পাশে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র। খবর: আল জাজিরার।
গাজায় বর্তমানে হাড়কাঁপানো শীত ও জ্বালানির তীব্র সংকট চলছে। রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় রান্নার কাজ ও শরীর উষ্ণ রাখতে সাধারণ মানুষ বনের কাঠ বা ধ্বংসস্তূপের কাঠ সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন অবস্থায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। গত ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২০৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শীতের তীব্রতা গাজার শিশুদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে আলী আবু জুর নামে তিন মাস বয়সী এক শিশু ঠান্ডাজনিত কারণে মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডায় জমে গাজায় ১০ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি বাধার কারণে তাঁবু বা অস্থায়ী ঘর মেরামতের কোনো উপকরণ গাজায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে পাতলা প্লাস্টিক ও ক্যানভাসের ছাউনিতে থাকা লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে গাজার ভবিষ্যৎ ও ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় গাজাকে নতুন করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলার কথা বলা হলেও, সেখানে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ী অধিকার নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
