শনিবার, জানুয়ারি ২৪

নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে আল জাজিরায় সংবাদ প্রকাশ

|| নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||

বাংলাদেশের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী দল আসলে কী? এটি কি পরবর্তী সরকার পরিচালনা করতে পারে?’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলটির দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন জোটের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার প্রকৃত সুযোগ তৈরি হয়েছে জামায়াতের সামনে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আল জাজিরার সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর এই প্রতিবেদনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে জামায়াত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জরিপের তথ্য ও দ্বিমুখী লড়াই

প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক কিছু জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর ডিসেম্বর মাসের জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির প্রতি সমর্থন ৩৩ শতাংশ এবং জামায়াতের প্রতি ২৯ শতাংশ। তবে গত সপ্তাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থার যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি ৩৪.৭ শতাংশ এবং জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে।

আল জাজিরার ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপি বনাম জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে একটি দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত এবার এককভাবে নয়, বরং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। এই জোটটি বিএনপির কয়েক দশকের ‘সিনিয়র পার্টনার’ ইমেজকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ১৫ বছর শেখ হাসিনা সরকারের চরম দমন-পীড়ন, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি এবং দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর জামায়াতের এই পুনরুত্থানকে ‘নাটকীয় প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যে ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার হয়েছিল, সেই একই ট্রাইব্যুনাল এখন শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ৫ আগস্টের পর জামায়াত মাঠ পর্যায়ে নিজেদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হওয়া দলটিকে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে আল জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *