মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩

সিরাজগঞ্জে হলুদের সমারোহে মৌ চাষিদের মধু সংগ্রহের মহোৎসব

মো. আসাদুল ইসলাম
|| আসাদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||

সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। আর এই হলুদ ফুলকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় শুরু হয়েছে মৌ চাষিদের মধু সংগ্রহের মহোৎসব। চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও বেলকুচিসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন পেশাদার মৌ চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা মধু সংগ্রহের জন্য এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করেছে। সরিষা ক্ষেতের পাশে শত শত কৃত্রিম মৌ-বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে খাঁটি মধু।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষার মাঠ। মৌ চাষিরা সারি সারি বাক্স বসিয়ে সেখান থেকে সংগৃহীত মধু প্রক্রিয়াজাত করছেন। চাষিরা জানান, সরিষা ফুল থেকে সংগৃহীত এই মধুর চাহিদা দেশজুড়ে ব্যাপক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মধুর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন।

সংগৃহীত এই মধু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার এই মধু বিদেশে রপ্তানিরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মধু সংগ্রহের ফলে একদিকে যেমন চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের কারণে সরিষার ফলনও ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে মধু চাষিরা কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। তারা জানান, ভালো মানের মধু উৎপাদিত হলেও সঠিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। সরকারিভাবে মধুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও স্থায়ী বাজারের ব্যবস্থা থাকলে এই খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হতো।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মৌ চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের এই সরিষা ও মধুর মেলবন্ধন স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও শত শত বেকার যুবক মৌ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষি বিভাগ আশা করছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এ বছর সিরাজগঞ্জ থেকে রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগৃহীত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *