
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলায় দিনব্যাপী ওয়ার্ড প্রতিনিধি ও ভোটার সমাবেশে ভোটের গুরুত্ব এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এসব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোট একটি আমানত। এই আমানত সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দেওয়াই একজন ভোটারের দায়িত্ব। অসৎ, দুর্নীতিবাজ কিংবা খেয়ানতকারীর হাতে ভোট দিলে সেই খেয়ানতের দায় ভোটারকেও বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভোট মানেই ক্ষমতা। একজন সাধারণ মানুষের ভোট এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির ভোটের মূল্য সমান। একটি ভোটেই কেউ জয়ী হয়, একটি ভোটেই কেউ পরাজিত হয়। এই শক্তি যদি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা নেশাগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে তারা সেই ক্ষমতা জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। বিপরীতে, আল্লাহভীরু ও সৎ মানুষকে দায়িত্ব দিলে তার সুফলও জনগণ ভোগ করবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদই রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র। ৩০০ জন সংসদ সদস্যের প্রণীত আইন দিয়েই দেশ পরিচালিত হয় এবং তারাই রাষ্ট্রের নেতৃত্ব নির্ধারণ করেন। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ নির্বাচিত হন, তাহলে দেশে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ডুমুরিয়ার মাগুরখালী, উলা, মইখালী ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটে অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতে তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তারা কেউই দুর্নীতি ও জুলুমমুক্ত শাসন উপহার দিতে পারেনি। তাই পরীক্ষায় ব্যর্থ শক্তিকে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ মোট ১২টি রাজনৈতিক দল একযোগে অংশ নিচ্ছে। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্তত একবার দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করুন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা কিংবা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে—এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এতদিন আলেম-ওলামাদের মসজিদ ও মাদরাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ মানুষের ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে দেশ অবশ্যই সঠিক পথে এগোবে।
সমাবেশগুলোতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
