
|| কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে সংঘবদ্ধ নকলচক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতিকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার চার ঘন্টা পূর্বেই একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসা থেকে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের একাধিক কপি উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মিনারুল ইসলাম—নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। ফলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোঃ আব্দুল লতিফ (৫২),সাং- নাখারগঞ্জ, ওয়ার্ড নং- ০৮, ইউপি- রামখানা, থানা- নাগেশ্বরী, জেলা- কুড়িগ্রাম,মোঃ শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী (৪০), বোয়ালভিঢ় (নেওয়াশী বাজার), ওয়ার্ড নং- ০৪, ইউপি- ডাঙ্গার মোড়, থানা- ফুলবাড়ী, জেলা- কুড়িগ্রাম,মোঃ হিমেল মাহমুদ (২৮),সাং- বাঁশখালী, ওয়ার্ড নং- ০৬, কাচিকাটা, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুর,মোছাঃ চামেলী আক্তার (২৯), সাং- টেকের হাট (সদর পৌরসভা), ওয়ার্ড নং- ০৪, থানা- রাজৈর, জেলা- মাদারীপুর,মোঃ মাহবুব খান (৩৫),সাং- জাঙ্গালীয়া, থানা- কাঠালীয়া, জেলা- ঝালকাঠি। বর্তমান ঠিকানা- বাসা নং- ২৮৫/১, টিভি রোড, রামপুরা, ডিএমপি, ঢাকা।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, একটি চক্র কাজ করছে কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযান এখনো চলমান।”
প্রশাসনের সতর্কতা, বাড়ানো হলো নিরাপত্তা
ঘটনার পরপরই জেলার অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠেকাতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা বলেন, “আটকের বিষয়টি থানার মাধ্যমে জেনেছি। তাঁরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল তিনটায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন পরিদর্শক, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
