
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা, হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় এ অঞ্চলের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের বেলা কুয়াশা কিছুটা কম থাকলেও মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্ত লাগোয়া এবং ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত এ জেলার চরাঞ্চলের মানুষজন শীতের প্রকোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, দিনমজুর এবং রিকশা-ভ্যান চালকরা। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে যারা কাজে বের হচ্ছেন, তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম কষ্ট। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে জেলাজুড়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা, যাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
অন্যদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রবিশস্য নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকলে আলু, টমেটো, শশাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জেলার হাট-বাজারগুলোতে গরম কাপড়ের দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও অভাবী ও চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও বেশি শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।
