
|| আজিজুল হক | ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাজারের কসাই পট্টিতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে কসাই শাহিনুরকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু কসাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও দুর্বল গরু কম দামে কিনে এনে জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রি করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক ও ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট নুর মোহাম্মদ। তারা উপস্থিত হয়ে জবাইকৃত পশুর মাংসে লাম্পি রোগের চিহ্ন দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে কসাই শাহিনুরকে সতর্ক করে ঘটনাস্থলেই সমুদয় মাংস মাটিতে পুঁতে দেন।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হোসনেআরা বেগম বলেন,
“অসুস্থ পশুর শরীরে যদি কোনো এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করা থাকে এবং মানুষ যদি সে মাংস খায়, তবে মানুষের শরীরে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স তৈরি হবে। ফলে ভবিষ্যতে সেই ব্যক্তি অসুস্থ হলে ঐ এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে তাকে আর সুস্থ করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস বিক্রি শুধু আইনগত অপরাধ নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর হুমকি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কসাইখানায় পশু জবাইয়ের সময় প্রাণীসম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কসাইখানায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
