
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনার ফুলতলা উপজেলার গড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শিক্ষার মানে এগিয়ে থাকলেও অবকাঠামোর দিক থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর পার করলেও বিদ্যালয়টিতে এখনো কোনো আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
সাফল্য থাকলেও সুযোগ-সুবিধা কম ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি শুরু থেকেই এলাকার শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ১৯৮৫ সালে এটি নিম্ন মাধ্যমিক এবং ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে এখানে প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অথচ এই ভালো ফলাফলের বিপরীতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মোটেও সন্তোষজনক নয়।
জরাজীর্ণ ভবনে দুর্ভোগ ছয় কক্ষের পুরনো একটি টিনশেড ঘরে চলছে এই স্কুলের সব কার্যক্রম। এর মধ্যে পাঁচটি কক্ষ ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং একটি কক্ষে চলে দাপ্তরিক কাজ। আলাদা কোনো বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি বা কমনরুম নেই।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, টিনের ঘর হওয়ায় গরমে ক্লাসে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্ষায় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়, আর শীতকালে ভাঙা জানালা-দরজা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকায় ক্লাসে উপস্থিত থাকাই কঠিন হয়। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও ল্যাব না থাকায় তারা ব্যবহারিক ক্লাস করতে পারছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক কম। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু ভবন সংকটের কারণে তারা উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছেন না। একটি নতুন একাডেমিক ভবন এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগমও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়টির রেজাল্ট ভালো, তবে ভবন সংকট একটি বড় সমস্যা। নতুন ভবন তৈরি হলে এখানকার শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এলাকাবাসীর আশা, সরকার দ্রুত একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে এই বিদ্যালয় থেকে ভবিষ্যতে আরও মেধাবী শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসবে।
