
|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||
রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত উপলক্ষে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৮৭ জন নবীন কর্মকর্তা ছাড়াও ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৪০তম বিসিএসের কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন, যারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় কোনো প্রার্থী, এজেন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের কাছ থেকে অর্থ, উপহার বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না। সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা গেলে এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি উদাহরণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এমন পুলিশ প্রত্যাশা করে যারা ভয়ভীতি সৃষ্টি করবে না, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। পুলিশের আচরণে সেবামুখী মনোভাব, ভদ্রতা ও মানবিকতা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের অন্যতম বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সব ধরনের বেআইনি আদেশ, অনৈতিক চাপ এবং স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সামগ্রিক মূল্যায়নে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ হিসেবে নির্বাচিত হন এএসপি মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসব্যাপী মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
