
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপণের অভিযোগ তুলে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। গতকাল মঙ্গলবার মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের নেতারা।
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে সরকারের ‘গড়িমসি’ ও রাজনৈতিক দূরত্ব বৃদ্ধির কারণে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে রাজপথের এমন কর্মসূচি দেশের রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গণভোটে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রত্যাখ্যান করলেও দলটি জনরায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের মতো মৌলিক বিষয়ে সমঝোতা হলেও বিএনপি বৈঠক এড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করে আন্দোলন দমনের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দেন যে, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল শাহবাগে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এই গণসংযোগ শুরু হবে। পরবর্তীতে ১১ ও ১২ এপ্রিল যথাক্রমে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ, ১৩ এপ্রিল জাতীয় সেমিনার এবং ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ক সারজিস আলম জুলাই সনদের বিরোধিতা করায় বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ এই টানাপড়েনকে দুঃখজনক অভিহিত করে দ্রুত সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে জনমনে হতাশা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা বাড়তে পারে।
